করপোরেট দুনিয়ায় পরিশ্রমের চেয়ে জনপ্রিয়তার মূল্য বেশি?
কর্মক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করলেই কি চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়? দক্ষতা ও কাজের স্বীকৃতিই কি পদোন্নতির জন্য যথেষ্ট? নাকি করপোরেট দুনিয়ায় পেশাগত সাফল্যের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রভাবও ভূমিকা রাখে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে এক কর্মীর অভিজ্ঞতা ঘিরে এমন প্রশ্নই সামনে এসেছে।
ওই কর্মীর দাবি, একটি প্রতিষ্ঠানে টানা তিন বছর কাজ করার পর পুনর্গঠনের সময় তিনি চাকরি হারিয়েছেন। অথচ তার অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে তাকে হেনস্তা করা কয়েকজন সহকর্মী পরে ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হয়েছেন। তার সাবেক ম্যানেজার হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান। আর তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ থাকা এক নারী পেয়েছেন টিম লিডের দায়িত্ব।
রেডিটে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ওই কর্মী জানান, তিন বছর ধরে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রম করেছেন। ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কাজ করতেন। এমনকি ছুটির দিনেও কাজ চালিয়ে যেতেন। তার দাবি, এই সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কাজের দৃশ্যমানতা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত চাকরি ধরে রাখতে পারেননি।
চাকরি হারানোর পর সাবেক সহকর্মীদের পদোন্নতির খবর তাকে আরও হতাশ করেছে। তার অভিযোগ, কয়েকজন সহকর্মী তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রেখেছিলেন এবং অন্যদেরও প্রভাবিত করেছিলেন।
পরিশ্রমের পাশাপাশি সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ?
রেডিটে ওই কর্মীর অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, করপোরেট কর্মজীবনে উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি জনপ্রিয়তা ও পেশাগত সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আবার একজন মন্তব্যকারী জানতে চেয়েছেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেলে ওই কর্মী কাজের ধরনে কোনো পরিবর্তন আনতেন কি না।
তবে একটি রেডিট পোস্টের ভিত্তিতে সব প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্কৃতি সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ওই কর্মীর অভিযোগগুলোরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি ও চাকরির স্থায়িত্ব নির্ভর করতে পারে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত, কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতার ওপর। পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক, যোগাযোগের দক্ষতা এবং নিজের কাজ যথাযথভাবে তুলে ধরাও পেশাগত অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
/শান্ত/
