বিমানবন্দরে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার, অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত
পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ এবং বিমানবন্দরে নিজেকে ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের অভিযোগসহ বিভিন্ন অসদাচরণ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় টুটুল চক্রবর্তী রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে তাকে ‘পলাতক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতিসহ ছুটি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর হয়েছিলো টুটুল চক্রবর্তীর। তবে তিনি ছুটি শুরুর আগের দিন ১৩ নভেম্বর প্রয়োজনীয় প্রস্থান প্রতিবেদন জমা না দিয়েই নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
ওই দিন নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ‘ডিআইজি’ পরিচয়ে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন তিনি। পরে সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এর আগেও কয়েকবার রাজশাহী বিমানবন্দরে নিজেকে ‘ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ’ পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেছিলেন টুটুল চক্রবর্তী। বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে। তার এসব কর্মকাণ্ডে জনসমক্ষে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা, আইনানুগ আদেশ অমান্য এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাবিরোধী। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এগুলো অসদাচরণ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অভিযোগের ভিত্তিতে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণীসহ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি লিখিত জবাব দেননি কিংবা জবাব দেওয়ার সময় বাড়ানোর আবেদন করেননি।
/শান্ত/
