গ্যাস সংকট: এলপিজি আমদানি করতে চান শিল্পমালিকরা
গ্যাসের তীব্র সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস তথা এলপিজির দিকে ঝুঁকছেন শিল্পমালিকরা। বাজার থেকে এলপিজি কেনার পাশাপাশি নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে সরাসরি আমদানির আগ্রহও দেখাচ্ছেন বড় উদ্যোক্তারা। ইতোমধ্যে কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই বিষয়ে জ্বালানি বিভাগে আবেদন করেছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানায় বয়লার ও উৎপাদনযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। উৎপাদন বন্ধ রাখার পরিবর্তে বাড়তি খরচে এলপিজি ব্যবহার করে কারখানা সচল রাখার চেষ্টা করছেন তারা।
দেশে এলপিজির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে আমদানিও। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে এলপিজি আমদানি হয়েছিলো ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৬০ টন। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৫৭ টনে। এক বছরে আমদানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সরকারি উৎপাদন ছিলো ২০ হাজার ৩৮৬ টন। সরকারি উৎপাদন ও বেসরকারি আমদানি মিলিয়ে মোট সরবরাহ ছিলো প্রায় ১৫ লাখ ৯৪ হাজার টন। এর ৯৭ দশমিক ১৪ শতাংশই এসেছে আমদানির মাধ্যমে।
এলপিজির ব্যবহার বাড়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে গ্যাস সংকট। গত ২৮ আগস্ট রাতে দেশে গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩৭ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। বিপরীতে চাহিদা ছিলো ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ফলে ঘাটতি ছিলো ১৪২ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট।
গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ছিলো ১৭ হাজার ৫৫১ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয়েছে ১৫ হাজার ১৯ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিলো ২ হাজার ৫৩২ মেগাওয়াট।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলপিজি তাৎক্ষণিকভাবে শিল্পের জ্বালানি সংকট কিছুটা কমাতে পারে। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন খুব কম হওয়ায় এর ব্যবহার বাড়লে আমদানিনির্ভরতাও বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম, ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া ও আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে দেশের বাজারে।
/শান্ত/
