নারিকেল গাছকে কেন ‘ট্রি অব লাইফ’ বলা হয়?
দূর থেকে নারিকেল গাছকে আর দশটি গাছের মতোই মনে হতে পারে। কিন্তু একটু গভীরে গেলেই বোঝা যায়, এর প্রায় প্রতিটি অংশই মানুষের কাজে লাগে। খাবার, পানীয়, তেল, দড়ি, জ্বালানি থেকে শুরু করে ঘর ও কারুশিল্পের উপকরণ—একটি গাছ থেকেই মেলে কত কিছু। এ কারণেই বিশ্বের উষ্ণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে নারিকেল পরিচিত ‘ট্রি অব লাইফ’ বা ‘জীবনের গাছ’ নামে।
কাঁচা নারিকেলের পানি তৃষ্ণা মেটায়, নরম শাঁস খাওয়া যায়। পরিণত নারিকেলের শাঁস থেকে তৈরি হয় নারিকেল দুধ ও তেল। শুকিয়ে তৈরি করা কপরা আবার নারিকেল তেল উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। এই তেল খাবারের পাশাপাশি সাবানসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্য তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।
নারিকেলের ছোবড়া থেকে পাওয়া আঁশ দিয়ে তৈরি হয় দড়ি, মাদুর, ব্রাশ, ঝুড়ি ও নানা গৃহস্থালি সামগ্রী। ছোবড়ার গুঁড়া বাগানচর্চাতেও ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে শক্ত খোল ব্যবহৃত হয় জ্বালানি ও কয়লা তৈরিতে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় এটি থেকে তৈরি করা যায় অ্যাক্টিভেটেড কার্বন, যা বিভিন্ন ফিল্টারে ব্যবহৃত হয়।
নারিকেল পাতার ব্যবহারও কম নয়। ঐতিহ্যবাহী সমাজে এসব পাতা দিয়ে ঘরের ছাউনি, ঝুড়ি ও বোনা সামগ্রী তৈরি করা হয়। পুরোনো গাছের কাণ্ড থেকেও কাঠ পাওয়া যায়, যা ঘরবাড়ি, আসবাব ও নৌকা তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
/শান্ত/
