নেপালে বন্যা: ধেয়ে আসতে পারে বাংলাদেশেও?
প্রকাশিত : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৯:৪২
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার পর তীব্র পাহাড়ি ঢল ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গায় মিশে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে নেপালে যে বিধ্বংসী বন্যা দেখা গেছে, তা একই শক্তিতে বাংলাদেশে আঘাত হানবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে ভাটির দিকে নামার সময় পানির তীব্রতা ও প্রবাহ স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে।
নেপালের ভোটি কোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে নেমে আসা ঢল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। এই পানি ভারতের বিহারের গণ্ডক নদী হয়ে হাজিপুর ও সোনপুরের কাছে সরাসরি গঙ্গায় মিশবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিহারের বাল্মীকিনগর গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে। গণ্ডক নদী দিয়ে নেমে আসা এই বিপুল পানি হাজিপুর-সোনপুর এলাকায় গঙ্গায় মিশে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা পয়েন্টে পৌঁছাবে। পরে ফারাক্কা অতিক্রম করে প্রবেশ করবে বাংলাদেশের পদ্মায়। নদীগুলোর সম্ভাব্য গতিপথটি হলো: নেপাল-ত্রিশূলী-নারায়ণী-গণ্ডক-হাজিপুর-সোনপুর-গঙ্গা-ফারাক্কা-পদ্মা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির সমতল সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও কুষ্টিয়াসহ গঙ্গা-পদ্মার তীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নদীর পানি বৃদ্ধির গতিপ্রকৃতির ওপর নজর রাখার পরম পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান জানান, বাংলাদেশের নদীগুলোর পানির সমতল বৃদ্ধিতে কেবল নেপালের পাহাড়ি ঢলই নয়; ফারাক্কা পয়েন্টের প্রবাহ, ভারতের গঙ্গায় বিদ্যমান পানি, দেশের ভেতরের স্থানীয় বৃষ্টিপাত এবং পদ্মার নিজস্ব অববাহিকার প্রবাহ যৌথভাবে ভূমিকা রাখে। তাই নেপালের ভয়াবহ বন্যার প্রভাব বাংলাদেশে হুবহু একই রূপে দেখা দেবে—এমনটি ভাবার কারণ নেই। আন্তর্জাতিক নদীগুলোর আন্তঃসীমান্ত ভৌগোলিক সংযোগের কারণে এই ঢলের সম্ভাব্য প্রভাবকে একেবারে উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই।
