লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং কতোটা উপকারী
শরীরকে সক্রিয় রাখতে প্রতিদিন ব্যায়াম বা জিমে যাওয়াই একমাত্র উপায় নয়। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাসও শরীর ও মন ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে হাঁটার একটি ধরন ‘লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং’। এটি নিয়ে পেট ফাঁপা, শরীরে পানি জমে ফোলা ভাব কমানো থেকে শুরু করে ‘ডিটক্স’ করার নানা দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব দাবির সবগুলোর পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
কী এই লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং?
লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং আলাদা কোনো কঠিন ব্যায়াম নয়। স্বাভাবিক হাঁটার সময় শরীর সোজা রাখা, স্বাভাবিকভাবে হাত নাড়ানো, আরামদায়ক গতিতে হাঁটা এবং গভীরভাবে শ্বাস নেওয়াই-এর মূল বৈশিষ্ট্য।
শরীরের লিম্ফ্যাটিক ব্যবস্থা অতিরিক্ত তরল সরাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হৃৎপিণ্ডের মতো এ ব্যবস্থায় কোনো কেন্দ্রীয় পাম্প নেই। বরং পেশির নড়াচড়া ও শ্বাস-প্রশ্বাস লিম্ফ তরল চলাচলে সহায়তা করে।
হাঁটলে কী উপকার হতে পারে?
হাঁটার সময় পায়ের পেশি নিয়মিত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ার পাশাপাশি লিম্ফ তরল চলাচলেও সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত হাঁটা শরীরে জড়তা কমাতে, জয়েন্টের শক্তভাব দূর করতে এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে তৈরি অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
যারা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন কিংবা নিয়মিত কঠিন ব্যায়াম করতে পারেন না, তাদের জন্যও হাঁটা একটি সহজ ও কার্যকর শারীরিক কর্মকাণ্ড।
ওজন কমাতে কতটা কার্যকর?
হাঁটা শরীরের শক্তি খরচ বাড়ায় এবং নিয়মিত করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং করলেই দ্রুত ওজন কমবে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ওজন নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি।
/শান্ত/
