দেশে বাড়ছে ইনফ্লুয়েঞ্জার ঝুঁকি, আক্রান্ত ১৩ শতাংশ রোগী
দেশে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠছে ইনফ্লুয়েঞ্জা। গত ২০ বছরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, জ্বর, কাশি ও তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের ১৩ শতাংশই ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত। একই সঙ্গে দেশে এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লুর উপস্থিতিও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
২০০৭ সাল থেকে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির সহায়তায় দেশে ইনফ্লুয়েঞ্জা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আসছে।
২০ বছরে ১৫টি সরকারি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো অসুস্থতা ও তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে আসা ১ লাখ ৭২ হাজার ৭৯২ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২২ হাজার ২৮৪ জন বা ১৩ শতাংশের ইনফ্লুয়েঞ্জা শনাক্ত হয়েছে। ৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার বেশি হলেও মৃত্যুঝুঁকি বেশি ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের।
আইসিডিডিআরবির সহযোগী বিজ্ঞানী ফাহমিদা চৌধুরী জানান, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুম। জুন-জুলাইয়ে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। স্বাস্থ্যকর্মী, গর্ভবতী নারী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, একাধিক দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা ব্যক্তি এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সীরা বেশি ঝুঁকিতে।
তিনি বলেন, মৌসুম শুরুর এক মাস আগে, অর্থাৎ মার্চে ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা দেওয়া যৌক্তিক।
আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘টিকা ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধের একটি উপায়। কিন্তু ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক পরা, নিয়মিত হাত ধোয়া—এসব গুরুত্বপূর্ণ।’
//রুশা//
