মেঘনায় মিলছে না ইলিশ, দুশ্চিন্তায় জেলেরা
মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগর ঘিরে গড়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুর জেলার বিশাল মৎস্য অর্থনীতি। নদী-সাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করেন জেলার হাজার হাজার জেলে। এবার ভরা মৌসুমেও রূপালি ইলিশের দেখা নেই মেঘনায়।
জেলে রমিজল মাঝি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার মাছের পরিমাণ অনেক কম। জ্বালানি, বরফ, খাবার ও শ্রমিকের খরচ বেড়েছে। মাছ কম পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
রামগতি মাছঘাটের ব্যবসায়ী মিনাজ মাঝি বলেন, গত বছর এই সময়ে তাদের ঘাট থেকে প্রায় ২০০ টন ইলিশ দেশের বিভিন্ন বাজারে গেছে। এই বছর মাছই পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলে আরছব মোল্লা বলেন, ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বাজার-সদাই নিয়ে নদীতে গেলে অনেক সময় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এতে খরচ তো ওঠেই না, উল্টো লোকসান হয়।
জেলেরা বলছেন, নাব্য সংকট, দূষণ, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে মাছের বিচরণ ও প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
লক্ষ্মীপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বলেন, কিছুদিন আগে নদী ও সাগরে ইলিশের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছিলো। তখন অনেক জেলে নদী ও সাগরে গিয়েছিলেন। বর্তমানে ভাটার কারণে ইলিশের বিচরণ কিছুটা কমেছে। আবার জোয়ার শুরু হলে ইলিশের পরিমাণ বাড়তে পারে।
জেলা মৎস্য অফিসের সরকারি তালিকা অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীনির্ভর জেলে ৩৬ হাজারের বেশি। তবে স্থানীয়দের হিসাবে নদী ও মাছের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল জেলের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।
এদিকে ইলিশ কম পাওয়ায় শুধু জেলেরা নন, সংকটে পড়েছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা। মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আড়তে আগের মতো মাছের সমাগম নেই। ব্যবসায়ীদের কেনাবেচাও কমেছে। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে বেড়েছে ইলিশের দাম।
