যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া জায়েজ নয়
নামাজের জন্য মুসলমানদের আহ্বান জানানোর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম আজান। ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের আগে মুয়াজ্জিন আজান দেন। ইসলামে আজান দেওয়া এবং এর জবাব দেওয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। তবে কিছু সময় ও পরিস্থিতিতে আজানের জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকার অবকাশ রয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুয়াজ্জিনের আজানের আওয়াজ যত দূর পৌঁছায়, তত দূর পর্যন্ত তার গোনাহ ক্ষমা করা হয়। আজানের আওয়াজ যেসব প্রাণী ও নিষ্প্রাণ বস্তু শুনতে পায়, সেগুলোও তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। (সুনানে আবু দাউদ: ৫১৫)
আজানের জবাব দেওয়ার নিয়ম হলো, মুয়াজ্জিন যে বাক্য বলেন, শ্রোতাও সাধারণত সেই বাক্যই বলবেন। তবে ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময় ‘লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলার নির্দেশনা রয়েছে। (সহিহ মুসলিম: ৩৮৫)
ঐতিহ্যবাহী কৌড়িয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতি ও মুহাদ্দিস মাওলানা হেলাল আসহাব কাসেমির বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া জায়েজ নয়, সেগুলো হলো—
১. নামাজরত অবস্থায়।
২. জুমার খুতবা বা বিবাহের খুতবা চলাকালে।
৩. স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের সময়।
৪. প্রস্রাব-পায়খানা করার সময়।
যেসব অবস্থায় জবাব না দেওয়ার অবকাশ রয়েছে
ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন, শরিয়তের মাসআলা শেখা বা শেখানোর সময় আজানের জবাব না দেওয়ার অবকাশ রয়েছে। তবে সুযোগ হলে জবাব দেওয়া উত্তম।
কোরআন তিলাওয়াতের সময় আজান হলে তিলাওয়াত থামিয়ে আজানের জবাব দেওয়াকে উত্তম বলা হয়েছে। (ফতওয়ায়ে মাহমুদিয়া, দ্বিতীয় খণ্ড)
খাবার খাওয়ার সময়ও আজানের জবাব না দেওয়ার অবকাশ রয়েছে। তবে খাবার সাময়িক বন্ধ রেখে জবাব দেওয়াই উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। (আদ্দুররুল মুখতার: ১/৩৯৭)
/শান্ত/
