ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে আবারও মেসি
আবারও ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রে লিওনেল মেসি। ২০২৬ সালের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারের জন্য ৩০ জনের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে ফ্রান্স ফুটবল। সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ফলে ক্যারিয়ারে নবমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।
মেসি'র সঙ্গে তালিকায় আর্জেন্টিনা'র আরও একজন ফুটবলার লাওতারো মার্টিনেজ। ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিশ্বকাপেও নজর কেড়েছেন ইন্টার মিলানের এই ফরোয়ার্ড।
২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলেকেও রাখা হয়েছে এবারের তালিকায়। তাঁর সঙ্গে আছেন হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম, রদ্রি, লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপেসহ বিশ্ব ফুটবলের আরও একাধিক তারকা।
বিশ্বকাপে মেসি'র পারফরম্যান্সই তাঁকে এবারের পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে। আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে ৮ গোল করেন তিনি। একই আসরে কিছু সময়ের জন্য বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তবে মেসি'র পথ সহজ নয়। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন রদ্রি ও লামিনে ইয়ামালও। আর গত মৌসুমের পারফরম্যান্সের কারণে ফেভারিটদের তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন হ্যারি কেইন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ গোলদাতা ছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে তার গোল ৬১টি। কেইনের গোলের ওপর ভর করেই বায়ার্ন মিউনিখ ঘরে তোলে ঘরোয়া ডাবল। বিশ্বকাপে প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স করতে না পারলেও ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তাই ভালো অবস্থানে রয়েছেন তিনি।
কিলিয়ান এমবাপের ক্ষেত্রেও বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স বড় ভূমিকা রাখতে পারে। উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন ফরাসি তারকা। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রথমে মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং পরে মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি।
তবে বিশ্বকাপে মেসি ও এমবাপে কেউই ব্যক্তিগতভাবে গোল্ডেন বল জিততে পারেননি। দু'জনের জন্যই বিষয়টি কিছুটা হতাশার হলেও ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে দু'জনই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে বসবে এবারের ব্যালন ডি’অরের আসর। ইংল্যান্ডের রাজধানীতে এবারই প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের অনুষ্ঠান।
ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের প্রাথমিক তালিকা:
লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি/আর্জেন্টিনা), জোয়াও নেভেস (পিএসজি/পর্তুগাল), মাইকেল ওলিসে (বায়ার্ন/ফ্রান্স), উইলিয়াম পাচো (পিএসজি/ইকুয়েডর), হুলিয়ান কিনিয়োনেস (আল কাদসিয়া/মেক্সিকো), ডেকলান রাইস (আর্সেনাল/ইংল্যান্ড), রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি/বার্সেলোনা/স্পেন), জুড বেলিংহাম (রিয়াল মাদ্রিদ/ইংল্যান্ড), পাউ কুবারসি (বার্সেলোনা/স্পেন), উসমান দেম্বেলে (পিএসজি/ফ্রান্স), মার্ক কুকুরেয়া (চেলসি/রিয়াল মাদ্রিদ/স্পেন), লুইস দিয়াজ (বায়ার্ন/কলম্বিয়া), ব্রুনো ফার্নান্দেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড/পর্তুগাল), গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল/ব্রাজিল), আর্লিং হলান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি/নরওয়ে), হ্যারি কেইন (বায়ার্ন/ইংল্যান্ড), আশরাফ হাকিমি (পিএসজি/মরক্কো), খিচা কাভারেস্কাইয়া (পিএসজি/জর্জিয়া), লামিনে ইয়ামাল (বার্সেলোনা/স্পেন), সাদিও মানে (আল নাসর/সেনেগাল), মার্কিনিওস (পিএসজি/ব্রাজিল), লাওতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান/আর্জেন্টিনা), কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ/ফ্রান্স), নুনো মেন্দেস (পিএসজি/পর্তুগাল), ফাবিয়ান রুইজ (পিএসজি/স্পেন), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল/ফ্রান্স), ফেরান তোরেস (বার্সেলোনা/পিএসজি/স্পেন), দায়োত উপামেকানো (বায়ার্ন/ফ্রান্স), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ/ব্রাজিল) ও ভিতিনিয়া (পিএসজি/পর্তুগাল)।
