মানুষের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে ছবি আঁকতে পারে এআই!
বিজ্ঞানীরা এবার মানুষের মস্তিষ্কের স্ক্যান পর্যবেক্ষণ করে মনে দেখা দৃশ্য হুবহু ছবিতে রূপান্তর করতে সক্ষম একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। ব্রেইন-আইটি নামের এই এআই প্রযুক্তি দৃশ্যমান বস্তুর নিখুঁত বিন্যাস ও নির্ভুল বিবরণ তুলে ধরে বিশেষজ্ঞদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে বলে পপুলার মেকানিক্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ইসরায়েলের ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সাইন্সের অধ্যাপক মাইকেল ইরানির নেতৃত্বে গবেষক দল এটি তৈরি করেছেন। প্রযুক্তিটি ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এফএমআরআই) স্ক্যানের সাহায্যে মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংকেত বিশ্লেষণ করে সেটিকে দৃশ্যমান ছবিতে রূপান্তর করে।
এর আগের পদ্ধতিগুলো মানুষ কী দেখছে তার সাধারণ ধারণা (যেমন প্রাণী বা যানবাহন) অনুমান করতে পারলেও বস্তু, আকার বা রঙের সঠিক বিন্যাস তৈরিতে ব্যর্থ হতো। তবে ব্রেইন-আইটি দুই ধাপের ডিকোডার ব্যবহার করে প্রথমে বস্তুর অবস্থান, আকার ও রঙ চিহ্নিত করে এবং পরে ছবির মূল বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে একটি নতুন ছবি ফুটিয়ে তোলে।
অধ্যাপক মাইকেল ইরানি বলেন, অন্যান্য এআই মডেলগুলো ছবির মূল অর্থ বজায় রাখলেও গঠন ও রঙের মতো প্রাথমিক বিষয়ে ভুল করে। আমাদের মডেলটি ছবি ও এর খুটিনাটি নির্ভুলভাবে পুনর্গঠন করতে পারে। তাছাড়া যেখানে অন্য মডেলে একজন নতুন মানুষের মস্তিষ্ক পড়া শিখতে কয়েক ডজন ঘণ্টার স্ক্যান লাগত, সেখানে আমাদের মডেলে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগে।
মস্তিষ্কের স্ক্যানের অত্যন্ত ব্যয়বহুল খরচ এড়াতে হাজার হাজার স্ক্যানের তথ্য ব্যবহার করে একটি ইউনিভার্সাল ব্রেইন এনকোডার তৈরি করেছেন গবেষকরা, যা মানুষের মস্তিষ্কের সাধারণ ধরনকে ১২৮টি অঞ্চলে বিভক্ত করে দ্রুত শিখতে পারে।
তবে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী টমি স্প্রেগ এ বিষয়ে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেন, নতুন কোনও ব্যক্তির জন্য ৪০ ঘণ্টার ইমেজিং করার সাধ্য আমাদের কারও নেই। কারণ প্রতি ঘণ্টার খরচ প্রায় ৬০০ থেকে ১ হাজার ডলার।
পরীক্ষামূলক প্রয়োগে এআইটি মাঝে মাঝে কুকুরকে ছাগল বা কেকের টুকরোকে স্যান্ডউইচ হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করলেও এর অগ্রগতি ভবিষ্যতে ভাবনার গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
অধ্যাপক ইরানি আরও বলেন, সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় হলো স্বপ্নের মতো ভিডিও ডিকোড করা। কারণ এফএমআরআই স্ক্যানে ২ সেকেন্ড সময় লাগে, অথচ সেকেন্ডে ডজনখানেক ছবি পরিবর্তিত হয়। সব বাধা অতিক্রম করতে পারলে ভবিষ্যতে হয়তো আমরা স্বপ্নও পড়তে পারব। সূত্র: এনডিটিভি
-কেআর
