সম-অধিকারের লড়াইয়ে গ্রামীণ নারী
ঘর গৃহস্থালীর কাজের বাইরেও সংসারের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে গ্রামীণ নারীরা সব সময়ই কোনো না কোনোভাবে অংশগ্রহণ করেন। হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল পালন, বীজ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, পানি ব্যবস্থাপনা ও মাটি পুনরুদ্ধারে প্রতিদিন গ্রামীণ নারীরা ভূমিকা রাখছেন। এবারের গ্রামীণ নারী দিবসে নারীর এই ভূমিকাকেই বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।
এই বছরের আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘প্রকৃতি রক্ষায় গ্রামীণ নারী কৃষক’। শুধু খাদ্য সংস্থান নয়, আমাদের অস্তিত্বের মূল প্রাকৃতিক সম্পদগুলো তারা পরম মমতায় আগলে রাখেন। তাদের এই বিপুল অবদানের তুলনায় অধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নেই বললেই চলে।
গ্রামীণ নারীদের সঠিক মূল্যায়নের জন্য কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তাদের জমি, পানি, প্রাকৃতিক সম্পদে সরাসরি আইনি অধিকার থাকা প্রয়োজন। অর্থায়ন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষি সেবায় সমান প্রবেশাধিকার। গৃহস্থালি কাজে তাদের ওপর চাপানো অবৈতনিক সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে, কাজের চাপ কমিয়ে পরিবারের মধ্যে তা বণ্টন করতে হবে। সংসারের প্রতিটি বিষয়ে তাদের মতামতের মূল্য দিতে হবে।
কৃষি নীতি নির্ধারণ ও জলবায়ু বাজেটে তাদের কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। জাতিসংঘ নারী সংস্থা বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, গ্রামীণ নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাধাগুলো দূর করে সরাসরি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
খাদ্য ও প্রকৃতি রক্ষায় তাদের যতখানি অবদান, সমাজ ও রাষ্ট্রে তাদের ক্ষমতার ভারসাম্যও ততখানি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। নারী কৃষক বর্ষ এবং জাতিসংঘের জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য ও মরুকরণ বিষয়ক কনভেনশনগুলোর বৈঠক গ্রামীণ নারীদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে মূল্যায়নের বড় সুযোগ এনে দিয়েছে।
/শিউলী/
