অ্যান্টার্কটিকার পুরু বরফ গলিয়ে দিচ্ছে পেঙ্গুইনের পায়খানা, বলছে গবেষণা
অ্যান্টার্কটিকার পুরু বরফের চাদর ক্রমশ গলার কারণ হিসাবে বিশ্ব উষ্ণায়নকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান বিজ্ঞানীরা। কিন্তু একটি গবেষণা বলছে একটি প্রাণির পায়খানাও এর জন্য কিছুটা দায়ী।
বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে ক্রমশ গলে যাচ্ছে বরফের স্তর। কুমেরু বা অ্যান্টার্কটিকার দিগন্ত বিস্তৃত বরফের পুরু চাদর ক্রমশ গলতে থাকছে। যা সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি করে বিশ্ববাসীকে ক্রমশ বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
কিন্তু কেবল উষ্ণায়নই বরফ গলার একমাত্র কারণ নয়। এছাড়াও কারণ রয়েছে। একটি প্রাণির পায়খানাও এর জন্য দায়ী বলে মনে করছেন গবেষকেরা। পিপল ম্যাগাজিনের একটি প্রতিবেদনে এই আশ্চর্য বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।
‘জার্নাল অফ জিওগ্রাফিক্যাল রিসার্চ: বায়োজিওসায়েন্সেস’-এ প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে পিপলে প্রকাশিত রিপোর্টটি জানাচ্ছে গবেষকেরা দেখেছেন পেঙ্গুইনের পায়খানা বরফের গলনকে তরান্বিত করছে। কারণ পেঙ্গুইনের পায়খানা বরফে থাকা শৈবালদের খাদ্য যোগাচ্ছে। তারা সংখ্যায় বাড়ছে। ছড়িয়ে পড়ছে অ্যান্টার্কটিকা বা কুমেরুর নানা প্রান্তে।
পেঙ্গুইনের পায়খানা তাদের খাবারে পরিণত হয়েছে। আর খাদ্যের যথেষ্ট জোগান থাকায় শৈবালরা সক্রিয় হচ্ছে। তারাই বরফ গলানোকে আরও দ্রুত করছে।
শৈবাল বরফে যত বৃদ্ধি পায় ততই বরফের ওই অংশ কালচে হতে থাকে। এরা তখন দ্রুত সূর্যালোক শোষণ করতে থাকে। পেঙ্গুইনের পায়খানা থেকে পাওয়া পুষ্টি এই শৈবাল বা অ্যালগিদের এই কাজ করতে সাহায্য করে। যা শেষ পর্যন্ত বরফ গলিয়ে দিচ্ছে।
গবেষকেরা তাই মনে করছেন কুমেরুর বরফ দ্রুত গলার পিছনে পেঙ্গুইনের পায়খানাও কিয়দংশে কার্যকরি ভূমিকা পালন করছে। পিপল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের হাত ধরে বিশ্বের নানা পত্রিকায় এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। যা পাঠকদের অবাকও করেছে।
-কেআর
