আম্বানির ছেলেকে অধ্যাপক নিয়োগ,সমালোচনায় নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়
অনন্ত আম্বানি।
ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে অধ্যাপক নিয়োগ করেছে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা এবং বন্য প্রাণী, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
৩১ বছর বয়সী অনন্ত আম্বানি রিলায়েন্স গ্রুপের নির্বাহী পর্ষদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৯ হাজার কোটি পাউন্ড। গুজরাটে ১ হাজার ৪০০ হেক্টর (৩ হাজার ৫০০ একর) জায়গাজুড়ে তিনি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা ‘ভান্তারা’ গড়ে তুলেছেন। সেখানে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রাণী রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ২০০টি সিংহ, ২৫০টি চিতাবাঘ ও ৯০০টি কুমির রয়েছে।
জার্মান সংবাদপত্র সুড্ডয়চে সাইটুংয়ের ২০২৫ সালের এক অনুসন্ধানে বলা হয়েছিলো, ভান্তারায় আনা অনেক প্রাণী গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতো দেশ হয়ে এসেছে। এসব দেশে বন্য প্রাণী কেনাবেচার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে স্বচ্ছতা কম। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, বিপন্ন প্রজাতির কিছু প্রাণী ভান্তারায় হয়তো অবৈধভাবে আনা হয়েছে। ভান্তারার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ এই পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি।
গত এপ্রিল মাসে অনন্ত আম্বানি ভান্তারা ইউনিভার্সিটি চালু করেছেন। এটিকে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও পশুচিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশ্বের প্রথম বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণায় শিক্ষকদের পাশাপাশি ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বিস্ময় প্রকাশ এবং বিদ্রূপ করেছেন।
ভারতের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও ‘স্পিকিং উইথ নেচার: দ্য অরিজিনস অব ইন্ডিয়ান এনভায়রনমেন্টালিজম’ বইয়ের লেখক রামচন্দ্র গুহ বলেন, আমাকে বলতে হচ্ছে, এটি বেশ রহস্যজনক একটি পছন্দ। ভারত ও বিশ্বের পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করা একজন ব্যক্তি হিসেবে আমি অন্তত ৫০ জন, হয়তো ১০০ জন ব্যক্তির নাম বলতে পারি, যারা এভাবে সম্মানিত হওয়ার জন্য আরও বেশি যোগ্য। তাদের মধ্যে আছেন মৃত্তিকাবিজ্ঞানী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, পানি সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বন রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তি, পরিবেশবিজ্ঞানী, দূষণ কমানোর বিশেষজ্ঞসহ আরও অনেকে। তারা ভারত ও ভারতীয়দের জন্য আরও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি অধ্যাপক ম্যাট পেরি বলেন, পরিবেশগত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা এই নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের জলবায়ু, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক লায়লা মেহতা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারও উদ্বেগ রয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সরকারি অর্থায়ন কমছে। এই অবস্থায় বড় আশঙ্কা হলো, ধনকুবের ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় প্রভাব ফেলতে পারে।
// ইমরান//
