বিনিয়োগে আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ
দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে বড় অংকের বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা। চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশটির অর্থমন্ত্রী লুই কাপুতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই তথ্য জানিয়েছেন।
নতুন এই নীতি অনুযায়ী, আগ্রহী ব্যক্তিরা অফেরতযোগ্য ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার টাকা) বিনিয়োগ করে আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব পেতে পারেন। এছাড়া ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বা ৮ লাখ ডলারের পাবলিক বন্ড কিনেও এই সুযোগ নেওয়া যাবে। আবেদনকারীর জীবনসঙ্গী এবং ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও ১ লাখ ডলার (১ কোটি ২২ লাখ ৬২ হাজার টাকা) সরকারি তহবিলে জমা দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের কম হলে জমা দিতে হবে ২৫ হাজার ডলার বা ৩০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
আর্জেন্টিনার অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সরকার কঠোর ব্যয়সংকোচন নীতি ও ‘রিজি’ নামক বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এই নতুন নাগরিকত্ব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলারের রিজার্ভ বাড়বে বলে আশা করছেন সরকারি কর্মকর্তারা। তারা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ আর্জেন্টিনার অর্থনীতিকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করবে।
গত বছরের ডিসেম্বরে হাভিয়ের মিলেই যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন দেশটিতে মাসিক মূল্যস্ফীতির হার ছিলো ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ফলে চলতি বছরের আগস্টে তা কমে ১ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। আগামী বছর যখন মিলেই পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ে নামবেন, তখন ঋণ পরিশোধের বড় চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে তাঁর এই কঠোর আর্থিক সংকোচন নীতি কতোটা সফল হবে এবং তিনি কতোটা শক্তভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন, সেদিকে গভীর নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
//আইই//
