ব্রিকস সম্মেলনের আগে শি জিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে ধোঁয়াশা
সংগৃহীত ছবি
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন শুরু হতে আর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় বাকি। কিন্তু সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যোগ দেবেন কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি বেইজিং। যোগ দিলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি'র সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
শি'র সফর নিয়ে সর্বশেষ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো ‘আনুষ্ঠানিক তথ্য’ নেই। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত ভারতে গেলে ৭ বছর পর দেশটিতে তাঁর প্রথম সফর হবে এটি।
এমন এক সময়ে শি'র সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি হয়েছিলো। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। চীনেরও হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সম্প্রতি সম্পর্কের বরফ কিছুটা গলেছে। গত বছর মোদি চীন সফর করার পর দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ে। ২০২০ সালের সংঘর্ষের পর চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপ করা কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করেছে ভারত। ইলেকট্রনিক্স, মূলধনি পণ্য ও সোলার সেলের মতো খাতে চীনা বিনিয়োগ নিয়ে কিছুটা নমনীয় হয়েছে নয়াদিল্লি। কয়েকটি খাতে ভারতীয় ও চীনা কোম্পানির যৌথ উদ্যোগের অনুমোদনও দ্রুত করার কথা বিবেচনা করছে দেশটি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসে কিরগিজস্তানে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও শি'র সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়েছে। বেইজিংয়ের ভাষ্য, দুই নেতা ভারত ও চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হিসেবে দেখেন। একে অপরের উন্নয়নে সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেন।
সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও নয়াদিল্লিতে চীনা দূতাবাসের সাবেক কূটনীতিক লিন মিনওয়াংয়ের মতে, চীন সম্পর্ক উন্নত করতে চায়। তবে ভারত কতোটা এগিয়ে আসতে প্রস্তুত, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তাঁর ধারণা, খুব দ্রুত বড় কোনো অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
নয়াদিল্লির অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হর্ষ পান্তও দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি এখনো বড় সমস্যা বলে মনে করেন। তাঁর মতে, চীনের বড় অর্থনৈতিক সক্ষমতা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির প্রভাব যখন দুই দেশই মোকাবিলা করছে, তখন চীন চাইলে ভারতের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
