২৫ ট্রান্সফরমার চুরি: ওসিকে ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ বললেন আদালত
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সাড়ে তিন মাসে ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে দায়িত্ব পালনে ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ বলে মন্তব্য করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ এ আদেশ দেন। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ওসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে তা সার্ভিস বুকে সংরক্ষণ এবং আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
আদালতের আদেশে বলা হয়, মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়া ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এফআইআর রুজু করতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পৃথকভাবে থানায় মামলা রুজুর আবেদন করেন। এর মধ্যে ২৩টি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত না করায় ওসিকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওসি লিখিত জবাবে জানান, বাদীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর না থাকায় মামলা রুজু করা সম্ভব হয়নি। তবে আদালত নথি পর্যালোচনা করে বলেন, প্রতিটি আবেদনে ঘটনার স্থান, তারিখ ও চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ছিলো।
আদালত মন্তব্য করেন, আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পরও এফআইআর না করে ওসি আইন লঙ্ঘন করেছেন। তাঁর এমন নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলা স্পষ্ট হওয়ায় তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমুল হক বলেন, আদালতের আদেশ এখনো তাঁদের হাতে পৌঁছেনি। আদেশ হাতে পেলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’
//রুশা//
