পূজার সাজে শাড়ির সঙ্গে যেমন ব্লাউজ পরবেন
সামনেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজায় শাড়ির প্রতি আকর্ষন থাকে সবচেয়ে বেশি। আর পূজোর সাথে যেন এর সখ্যতা অনেক গভীর।
সময় বদলেছে। এখন আর কেউ শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে ব্লাউজ পরে না। অনুষ্ঠানের ধরণ বুঝে তৈরি করে নেন নানারকম ব্লাউজ। বর্তমানে টিনএজার মেয়েরা যতই ওয়েস্টার্ণ পোশাক পরুক না কেন, শাড়ির আবেদনও তাদের কাছে কম নয়। তারা নানা ঢঙের ব্লাউজ বানিয়ে নিজেদের সাজে নিয়ে আসে বিশেষ চমক। শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজের সম্পর্কটা শুধু মিলিয়ে পরার নয়। একে অন্যকে ভিন্নভাবে ফুটিয়ে তোলারও। ব্লাউজের কাট, কাপড়, হাতা কিংবা নকশায় সামান্য পরিবর্তনেই বদলে যেতে পারে শাড়ির পুরো সৌন্দর্য। পূজায় লাল-সাদা রং বেশি পরা হয়। সেখানে কাট আর সাজে নিয়ে আসা যায় ভিন্নতা।
যেমন ব্লাউজ পড়বেন
সুতি শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাধীনভাবে ভাবা যায়। যে কোনো চেক কাপড়ের ব্লাউজ যেমন মানায়, জয়পুরিও মানিয়ে যায়। লেস লাগিয়ে নিলে, একটু সাবেকি ঢঙে ব্লাউজটি বানিয়ে নিলে চমৎকার ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। হাতায় কুচি দিয়ে ঘটি হাতার চলও সমানতালে জনপ্রিয়। চাইলে সিল্কের ব্লাউজও পরা যায়। একটু ম্যাট ধরনের, তাহলে সুতি শাড়ির সঙ্গে বেশ ভালো মানায়। মসলিন শাড়ির ক্ষেত্রে অবশ্য মসলিন বা সিল্কের ব্লাউজই বেশি মানানসই। সাধারণ রঙের ব্লাউজে চিকন লেস বা সামান্য হাতের কাজ থাকলে দারুণ মানিয়ে যায়। বিভিন্ন ধরনের সুতি শাড়ির সঙ্গেও পরা যায়।
চোলি কাটের ব্লাউজে কারচুপি বা অন্য কোনো কাজ থাকলে মসলিন, বেনারসি কাতানের সঙ্গে পরলে বেশ অভিজাত লাগে। টপ স্টাইলের ব্লাউজও শাড়ির সঙ্গে চমৎকার লাগে। পূজা বা অন্য কোনো উৎসবে যখন একটু আরামদায়ক সাজ চাই, প্লিট করে পরা শাড়ির সঙ্গে এই ধরনের ব্লাউজ বেশ মানিয়ে যায়।
আঁচল যেভাবে রাখবেন
যারা শাড়ির আঁচল ছেড়ে রাখতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য হাফ হাতা বা ফুল হাতার সাধারণ কাটের ব্লাউজ বেশ ভালো মানায়। বয়স, শাড়ির ধরন ও ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করে সেজে নিতে পারেন। শাড়ির ধরন ও আঁচল কীভাবে পরা হচ্ছে, সেটি বুঝে ব্লাউজের কাট ও নকশা বেছে নেওয়া জরুরি। মসলিন শাড়ির আঁচল সাধারণত প্লিট করে পরার চেয়ে ছেড়ে রাখলেই বেশি সুন্দর লাগে। সুতি শাড়ির আঁচলে সুন্দর কাজ থাকলে, সেটিও ছেড়ে রাখলে শাড়ির নকশাটা ভালোভাবে ফুটে ওঠে। দেশীয় বেনারসি বা কাতানের আঁচল ছেড়ে রাখলে শাড়ির নিজস্ব আবেদন বজায় থাকে। মূল বিষয় হলো শাড়ি ও ব্লাউজ দুটোরই আলাদা সৌন্দর্য যেন প্রকাশ পায়। শাড়ির ধরন ও আঁচল কীভাবে পরা হচ্ছে, সেটি বুঝে ব্লাউজের কাট ও নকশা বেছে নিতে হবে।
/শিউলী/
