বাংলাদেশে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ রাশিয়া'র
বাংলাদেশের এলএনজি খাতে প্রবেশের উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া'র জ্বালানি কোম্পানি নোভাটেক। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পর্কিত দুবাইভিত্তিক কোম্পানি নোভাটেক মিডলইস্ট ডিএমসিসি মহেশখালীতে একটি স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে।
পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর পেট্রোবাংলার কাছে ৩২ স্লাইডের প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়। এতে টার্মিনাল নির্মাণের অর্থায়ন, এলএনজি ক্রয় এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছে নোভাটেক মিডলইস্ট।
নোভাটেক মিডলইস্টের সঙ্গে রাশিয়ার নোভাটেকের সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৯ জুনের একটি চুক্তিতে রাশিয়ার নোভাটেককে লাইসেন্সদাতা এবং নোভাটেক মিডলইস্ট ডিএমসিসি-কে লাইসেন্সগ্রহীতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পেট্রোবাংলায় দেওয়া প্রেজেন্টেশনেও নোভাটেকের যে লোগো ব্যবহার করা হয়েছে, রাশিয়া'র নোভাটেকের লোগোর সঙ্গে সেটির মিল রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, মহেশখালীতে সমুদ্রের তলদেশে বড় কংক্রিটের কাঠামোর ওপর গ্র্যাভিটি-বেইজড স্ট্রাকচার (জিবিএস) টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এতে এক মাসের এলএনজি মজুদ রাখা যাবে। বড় জাহাজ থেকে এলএনজি খালাসের পাশাপাশি ছোট জাহাজে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরল এলএনজি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
মেঘনাঘাট, আশুগঞ্জ, ঘোড়াশাল ও ভেড়ামারায় ছোট রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা ও ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টে সরবরাহ করা হবে।
নোভাটেকের হিসাবে, এই টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৯৫০ থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩২ মাস সময় এবং ৯৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে মহেশখালীতে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিট পাওয়ারের দু'টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর বাইরে চীনা একটি কোম্পানিও সেখানে নতুন একটি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে রাশিয়ার নোভাটেকের প্রস্তাব বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি একটি বাধা হয়ে উঠতে পারে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের কূটনৈতিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাব গ্রহণের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই-বাছাইয়ের ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।
