শ্রীলঙ্কা থেকে সার্বিয়া: ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতার পালাবদল
একটি দাবি থেকে শুরু। তারপর রাজপথে মানুষের ঢল। আর শেষ পর্যন্ত সেই আন্দোলনের চাপেই বদলে গেছে রাষ্ট্রের ক্ষমতার সমীকরণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছাত্র ও তরুণদের নেতৃত্বে এমন আন্দোলন দেখা গেছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে। কোথাও সরকার পতন হয়েছে, কোথাও পদত্যাগ করেছেন শাসক। এবার সেই তালিকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সার্বিয়া।
শুরুটা শ্রীলঙ্কায়। ২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের সংকটে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নামে তরুণ ও শিক্ষার্থীরাও। ‘আরাগালায়া’ নামে পরিচিত সেই আন্দোলন দ্রুত গণআন্দোলনে রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়েন। শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়েন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসা এবং পদত্যাগ করেন। শ্রীলঙ্কার এই আন্দোলনকে সাম্প্রতিক সময়ের বড় তরুণ নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়।
এরপর ২০২৪ সালে বাংলাদেশ। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৩ আগস্ট আন্দোলনের সমন্বয়কেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনে পরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও যুক্ত হন।
২০২৫ সালে একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায় নেপালে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে তরুণদের বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা দুর্নীতি, বৈষম্য ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত হয়। পুলিশের গুলিতে ১৯ জন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন।
এবার সার্বিয়া। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। দুর্নীতি, জবাবদিহি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা সেই ছাত্র আন্দোলনের মধ্যেই ২৭ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট আলেকসান্ডার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। তবে সরকার পতন হয়নি। ২৫ অক্টোবরের আগাম নির্বাচনে তার দল থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়বেন তিনি।
শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল আর সার্বিয়া। চার দেশের বাস্তবতা আলাদা। কিন্তু একটি মিল স্পষ্ট, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের রাজপথের আন্দোলন যখন বৃহত্তর জনসমর্থন পায়, তখন তা রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে।
প্রশ্ন এখন, এই আন্দোলনগুলো কি শুধু শাসক পরিবর্তন করেছে, নাকি বদলে দিতে পেরেছে রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোও? উত্তর খুঁজতে তাকাতে হবে আন্দোলনের পরের অধ্যায়ের দিকে।
/শান্ত/
