Advertisement(970X90).png
Advertisement(300X90).png

৩০ আশ্বিন ১৪৩৩, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আয়াস-রিমির মামলার শুনানিতে আইনজীবীকে মারধর
আয়াস-রিমির মামলার শুনানিতে আইনজীবীকে মারধর

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসানের আদালতে বুধবার জামিন শুনানিতে এ ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে এজলাস ছাড়েন বিচারক রিয়াদ হাসান। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় গত শনিবার শিল্পকলা একাডেমির উল্টোপাশের ফুটপাত সংলগ্ন দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি নষ্ট করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আয়াসসহ একদল তরুণ। এর জেরে উভয়পক্ষের বাগ-বিতণ্ডার মধ্যে আয়াসসহ ৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। আয়াস ছাড়া আটক বাকি ৩ জন হলেন রিমি, সাকিবুল হাসান ও সুজন মিয়া। ঘটনাস্থলে এক নারীকে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি দিতে দেখা যায়। তখন এক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন। এই সময় ওই নারী জানান, তারা ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে এসেছেন। পুলিশি বাধার মুখে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্য সচিব আয়াসের নেতৃত্বে তারা স্লোগানও দেন। এই ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক শনিবার আটক ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় গত রোববার মারজিয়া খন্দকার রিমি ও সুজনের ২ দিন এবং আয়াস ও সাকিবুল হাসানকে ৩ দিনের রিমান্ড দেন আদালত। মঙ্গলবার সাকিবুল হাসান ও সুজন মিয়াকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার আয়াস ও রিমিকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল গাফফার হিমেল। আবেদনে বলা হয়েছে, দুই আসামিকে রিমান্ডে পেয়ে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামির বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং তাদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পুনরায় রিমান্ডে পাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে আয়াস ও রিমিকে এজলাসে তোলা হয়। আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন সুমন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে তিন ধারার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথকে কেউ ভালবাসে আবার অনেকে বিদ্বেষ করে। তিনি আসমান থেকে আসেননি, কোনো দেবদূতও না। আয়াস ও রিমির বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা করা হয়েছে, তা তাদের ধারণ করে না। আয়াস অসুস্থ। তাদের জামিনের প্রার্থনা করছি। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, আয়াস পাকিস্তান, জিন্নাহর কবর জিয়ারত নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। পাকিস্তান, জিন্নাহকে নিয়ে বক্তব্য রাখা উস্কানি, দুরভিসন্ধি আছে। বাপ-মা, দাদা-দাদি না, পাকিস্তানে গিয়ে জিন্নাহর কবর জিয়ারতের কথা বলে। জিন্নাহকে নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় ষড়যন্ত্র আছে। পাকিস্তান, ভারতকে সামনে এনে তারা বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। ‘সেগুনবাগিচা থেকে হকার উঠিয়ে কেন গ্রাফিতি আঁকা হলো, এটা নিয়ে তাদের জ্বালা। আপনারা গোলাম আযম, নিজামীর ছবি রাখার কথা বলতে পারেন। কিন্তু অন্যজনের ছবিতে কালি দিতে পারেন না। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উস্কানি দিতে তারা এমন কর্মকাণ্ড করেছে। গত ৭ মাস ধরে এই সরকার, জনগণকে নিয়ে তাঁরা গালিগালাজ করছে। এই প্রজন্মকে খারাপ করছে তাঁরা।’ ‘সেফুদা নামে একজন আছে, যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে গালাগাল করে। তাঁকে দেখে তাঁরা গালিগালাজ শিখেছে। তারা একটা প্রজন্মকে নষ্ট করছে। পাকিস্তান, ভারতকে স্বাধীন সার্বভৌম দেশে টেনে এনে বিদ্বেষ সৃষ্টি করছে।’ একপর্যায়ে আয়াস-রিমির আইনজীবীদের উদ্দেশে ওমর ফারুক বলেন, এরা সবাই জামায়াতের আইনজীবী, দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। এই সময় আসামিপক্ষের এক আইনজীবী আল মহসিন তৌহিদ এর বিরোধিতা করে বলেন, পিপির বক্তব্যে আপত্তি আছে। সেই সময় রাষ্ট্রপক্ষে থাকা কয়েকজন আইনজীবী তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। তাঁরা এসে আইনজীবী তৌহিদকে কিল-ঘুসি মারতে শুরু করেন। একপর্যায়ে টানাটানিতে আইনজীবী তৌহিদের শার্ট ছিঁড়ে যায়। সেই সময় কয়েকজন বলতে থাকেন, তিনি (আল মহসিন তৌহিদ) অসুস্থ। কয়েকজন গিয়ে তাকে ছিনিয়ে আনেন। এই অবস্থা দেখে এজলাস ছাড়েন বিচারক রিয়াদ হাসান। তখনো আদালতে হট্টগোল চলতে থাকে। কয়েক মিনিট পর প্রসিকিউটর ফারুকী ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন সুমন তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আয়াস প্রসিকিউটর ওমর ফারুকের উদ্দেশে বলেন, ক্ষমা চেয়েছি, স্যার। ক্ষমা চাই। এসব (মারামারি) করে আমার জীবন ধ্বংস করবেন। আল মহসিন তৌহিদের উদ্দেশে আয়াস বলেন, আপনাকে তো আমি চিনি না। আপনি কেন আসছেন? পনের মিনিট পর পরিস্থিতি শান্ত হলে আবার বিচারক রিয়াদ হাসান এজলাসে ওঠেন। আইনজীবীকে মারধর ও আদালত কক্ষে হট্টগোল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টা খুবই খারাপ লাগল। আপনাদের কাছে এটা আশা করিনি। এ পর্যায়ে অর্ডার দিয়ে দিচ্ছি। পরে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক রিয়াদ হাসান। /এমএএইচ/

‘চাকরিতে অর্জিত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না’
‘চাকরিতে অর্জিত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না’

১৭ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি এ. এফ. এম সাইফুল করিম। প্রকাশিত রায় পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান তালুকদারসহ মোট সাতজন উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়। তৎকালীন ‘বারি প্রবিধানমালা, ২০১১’ অনুযায়ী, ফিডার পদে পাঁচ বছর চাকরি সম্পন্ন করার পর উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) থেকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে শতভাগ পদোন্নতির বিধান ছিল। রিট আবেদনকারী সাতজন প্রকৌশলীই ২০২১ সালের আগেই প্রবিধানমালা অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২১ সালের ৯ মার্চ সরকার ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রবিধানমালা, ২০২১’ গেজেটে আকারে প্রকাশ করে। নতুন এই প্রবিধানমালার ৩২ নম্বর ক্রমিকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদটি শতভাগ পদোন্নতির পরিবর্তে ৩৩ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৬৭ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান করা হয়। বিপরীতে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল শাখার উপসহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতির শতভাগ কোটা অপরিবর্তিত রাখা হয়। নতুন এই প্রবিধানমালার ফলে পদোন্নতির অর্জিত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রিট আবেদনকারীরা ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। শুনানিকালে রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী এস.আর.এম. লুৎফর রহমান আখন্দ আদালতে তুলে ধরেন যে, ২০২১ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালা কার্যকর হওয়ার আগেই তার মক্কেলগণ পদোন্নতির সকল শর্ত পূরণ করে অধিকার অর্জন করেছিলেন। তাই পরবর্তী সংশোধনের মাধ্যমে তাদের প্রতিকূলে পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করা আইনত বেআইনি ও বৈষম্যমূলক। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) পক্ষের আইনজীবী কবির ইকবাল হোসেন যুক্তি দেন, ২০১১ সালের প্রবিধানমালা রহিত করে ২০২১ সালের প্রবিধানমালা প্রবর্তন করা হয়েছে। রহিত প্রবিধানের অধীনে কেউ পদোন্নতি দাবি করতে পারেন না এবং ভালো সেবা নিশ্চিত করতে সিভিল শাখায় বিএসসি প্রকৌশলীদের সরাসরি নিয়োগের বিধান করা হয়েছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনা করে আমরা এই মর্মে সিদ্ধান্ত প্রদান করছি যে, ইতোপূর্বে প্রবিধান সংশোধনীর আগেই যারা পদোন্নতির জন্য যোগ্য হয়েছিলেন, সেই রিট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নব প্রণীত পদোন্নতির প্রবিধান, ২০২১ ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। রিট আবেদনকারীরা পূর্ববর্তী প্রবিধান, ২০১১-এর অধীনে অর্জিত ও প্রতিষ্ঠিত অধিকারের অধিকারী। পরবর্তীকালে প্রবিধানে কোনো পরিবর্তন আনার মাধ্যমে তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। সুতরাং সংশোধিত প্রবিধান, ২০২১ কার্যকর হওয়ার আগে যেসব আবেদনকারী পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত চাকরিকাল, যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করেছিলেন, তাদের পদোন্নতির বিষয়টি পুরোনো প্রবিধান, ২০১১-এর বিধান অনুযায়ী কঠোরভাবে বিবেচনা করতে হবে। পরবর্তীতে প্রবর্তিত কোনো নতুন শর্তের কারণে তাদের ইতোমধ্যে অর্জিত যোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করা যাবে না। উপর্যুক্ত কারণগুলোর জন্য আমরা রুলটিতে সারবত্তা খুঁজে পাচ্ছি। তাই রুলটি নির্দেশনাসহ নিষ্পত্তি করে বিবাদীগণকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, ২০২১ সালের প্রবিধানমালা চালুর আগেই পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনকারী রিট আবেদনকারীদের ‘বারি প্রবিধানমালা, ২০১১’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে এবং পদের শূন্যতা, যোগ্যতা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত অন্যান্য আইনানুগ শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগামী এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিধানের অধীনে এই পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হলো। এই রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার আদেশটি নিষ্পত্তি করা হলো। ফলস্বরূপ, উপরোক্ত নির্দেশনা সাপেক্ষে রুল নিষ্পত্তি করা হলো। রায় এবং আদেশ অবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হোক। /এমএএইচ/