বিশ্বমঞ্চে ফাইনালে বাংলাদেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উদ্ভাবনী উদ্যোগ
কম্বোডিয়ার নমপেনে ১৩ ও ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ‘এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম ২০২৬’-এ এই ফাইনালিস্টরা তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো প্রদর্শন করবেন। সেখানেই প্রতিযোগিতার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। স্বল্পোন্নত দেশ এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও এর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্থানীয় ও উদ্ভাবনী প্রয়োগকে স্বীকৃতি দিতেই এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, স্থানীয় জলবায়ু সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধানগুলোকে আরও বেশি দৃশ্যমান করে তোলা। একই সাথে, সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগুলোকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় অংশীদারিত্ব, দক্ষতা এবং সহায়তার সাথে উদ্ভাবকদের যুক্ত করতে সহায়তা করা। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিল বলেছেন, “জলবায়ু কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুগান্তকারী গতি আনতে পারে, তবে তা কেবল তখনই সম্ভব যখন এটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও দায়িত্বশীলতার সাথে ব্যবহার করা হয়। আমরা ইতোমধ্যে দ্বি-গতির বৈশ্বিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হচ্ছি। তাই এআই-কে এই ব্যবধান বাড়াতে নয়, বরং তা কমিয়ে আনতে সাহায্য করতে হবে।” পাঁচটি ফাইনালিস্ট প্রজেক্ট উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তৈরি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যই ডিজাইন করা এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) উদ্ভাবনের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে। একই সাথে এটি নিশ্চিত করছে যে উদীয়মান প্রযুক্তিগুলো যেন সবার কাছে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং স্থানীয় চাহিদার সাথে মানানসই হয়। পাঁচ ফাইনালিস্টের সংক্ষিপ্ত পরিচয় এআই-মরিস– ইন্দোনেশিয়া: পূর্ব তিমুরে সুনির্দিষ্ট বনায়নের মাধ্যমে স্থানীয় গাছপালা শনাক্ত করতে এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া জলসীমায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এআই, স্যাটেলাইট চিত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে। ফায়ারপ্রেডিক– তানজানিয়া: দাবানল পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কবার্তা দিতে এআই, স্যাটেলাইট এবং আবহাওয়ার উপাত্ত ব্যবহার করে, যা পরিবেশ রক্ষা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করে। ক্লাইমেটভয়েস এআই– মালি: জলবায়ু সংক্রান্ত সতর্কতাগুলোকে স্থানীয় ভাষায় অনুবাদ করে এবং ভয়েস মেসেজ, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ ও রেডিওর মাধ্যমে সহজেই সবার কাছে আগাম বার্তা পৌঁছে দেয়। ক্লাইমেট অ্যাকশন কোপাইলট– বাংলাদেশ: জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী ও অবকাঠামো চিহ্নিত করতে এআই এবং ভৌগোলিক উপাত্ত ব্যবহার করে, যা সরকারকে ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়ে জলবায়ু সহনশীলতার বিনিয়োগগুলোতে অগ্রাধিকার দিতে সহায়তা করে। ক্লাইমেইড– তানজানিয়া: জলবায়ুর ঝুঁকি মূল্যায়ন, খরার পূর্বাভাস, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং অভিযোজন পরিকল্পনা ও জলবায়ু অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিতে এআই ও জলবায়ুর উপাত্ত কাজে লাগায়। পুরস্কার সম্পর্কে কিছু কথা ২০২৪ সালে চালু হওয়া ইউএনএফসিসিসি টেকনোলজি মেকানিজমের 'এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড' এমন সব উদ্ভাবনী এবং ওপেন-সোর্স এআই সমাধানগুলোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও অভিযোজনে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি এটি স্বল্পোন্নত দেশ এবং ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর জলবায়ু সংকট সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে । এই পুরস্কারটি স্থানীয়ভাবে কার্যকর এমন উদ্ভাবনগুলোকে তুলে ধরে, যা জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে সক্ষম। ২০২৫ সালে এই প্রতিযোগিতায় ১১০টি দেশ থেকে ৬০০টিরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল, যা জলবায়ু কার্যক্রমে এআই-এর ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনাকে ফুটিয়ে তোলে। এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম ২০২৬ ইউএনএফসিসিসি টেকনোলজি এক্সিকিউটিভ কমিটির আয়োজনে, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি এবং কম্বোডিয়া সরকারের অংশীদারিত্বে নমপেনে দুই দিনব্যাপী এই ফোরাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে নীতি নির্ধারক, গবেষক, উদ্ভাবক এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জলবায়ু কার্যক্রমে এআই কীভাবে বাস্তব ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবেন। -কেআর