গেজেট এখনো হয়নি, তবে বদলাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতার ১১ নিয়ম
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও এখনো প্রকাশ হয়নি নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর গেজেট। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করা হয়। এতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় শুধু মূল বেতন নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, মোবাইল, যাতায়াত ও টিফিন ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময় কমানো এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন ভাতার প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন পে স্কেলের উল্লেখযোগ্য ১১ পরিবর্তন হলো—
১. বাড়িভাড়া ভাতার হার কমবে। ঢাকায় বর্তমানে ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশের পরিবর্তে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে মূল বেতন বাড়ায় প্রকৃত টাকার অঙ্ক বাড়তে পারে।
২. বয়সভেদে চিকিৎসাভাতা বাড়বে। ৫০ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার, ৫০-এর বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০-এর বেশি থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৬ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
৩. গ্রেডভেদে ইনক্রিমেন্টের হার বদলাবে। গ্রেড-২০ থেকে ৬ পর্যন্ত ৫ শতাংশ, গ্রেড-৫-এ ৪ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও ৩-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ হবে।
৪. সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা চালু হবে। প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডে ৫০০ এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
৫. যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে বেড়ে ৬০০ টাকা হবে।
৬. টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা হবে।
৭. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা থাকবে। সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ সুবিধা পাবে।
৮. বাংলা নববর্ষ ভাতা ২০ শতাংশ থেকে কমে ১৫ শতাংশ হবে।
৯. পেনশনে পরিবর্তন আসছে। সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা হতে পারে।
১০. উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময় কমছে। একই গ্রেডে ১০ বছরের পরিবর্তে ৮ বছর চাকরির পর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
১১. সশস্ত্র বাহিনীর বেতন-ভাতাও পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। মেজর জেনারেল ও সমপদে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন বিশেষ ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে। সরকারের হিসাবে প্রায় ২৪ লাখ চাকরিজীবী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত উপকৃত হওয়ার কথা রয়েছে। এখন গেজেট ও বাস্তবায়ন নির্দেশনার অপেক্ষা।
//রুশা//
