দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, এলপিজিকে বিকল্প জ্বালানির প্রস্তাব
কক্সবাজারের মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ট্রান্সফার শুরু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পেট্রোবাংলা জানিয়েছিল, মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি ট্রান্সফার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটছে। এতে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছিলো।
এই বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি বলেছেন, আবহাওয়া প্রতিকূল থাকার কারণে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এফএসআরইউ থেকে এলএনজি খালাস করতে বৃহস্পতিবার কিছুটা সমস্যা হয়েছিলো। শুক্রবার সকাল ৭টা ১৮ মিনিট থেকে খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিকালের মধ্যেই গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে।
এদিকে, দেশে তীব্র গ্যাস সংকট ও জাতীয় গ্রিডের নিম্ন চাপের কারণে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিল্প খাতের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসকে (এলপিজি) বিকল্প ও অন্তর্বর্তীকালীন জ্বালানি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)।
গত ২১ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের (ইএমআরডি) সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানায় সংগঠনটি। চিঠিতে শিল্পখাতে এলপিজির সহজ ও ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংক্রান্ত এবং নীতিগত সংস্কারের একটি ৮ দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা নিরসন করা, আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির বারবার দ্বৈত-পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা বাতিল করা, আমদানির অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আমদানিকৃত এলএনজি ও জাতীয় গ্রিডের গ্যাসের তুলনায় এলপিজিকে আরও সাশ্রয়ী করা।
//ইমরান//
