শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, কমেছে লেনদেনও
শেয়ারবাজারে দরপতন থামছে না। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের মতো দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবারও (৫ অক্টোবর) দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান লেখানোর পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। সেইসঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা শেষেও সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকে। তবে দুপুর ১২টার পর থেকে বাজারের চিত্র বদলে যায়। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় নাম লেখায়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত চলে এ প্রবণতা। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে মাত্র ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৪৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩৩টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩৬টির দাম কমেছে এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬৯টির দাম কমেছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৯টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১২টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮১ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৩৭ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩১ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে অ্যাপেক্স ফুডস।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- একমি পেস্টিসাইড, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, টেকনো ড্রাগস, মালেক স্পিনিং, ইভিন্স টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল এবং ওরিয়ন ইনফিউশন।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২০টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪০ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
