ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ভিসা নিয়ম আটকে দিল মার্কিন আদালত
সংগৃহীত ছবি
বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার মেয়াদ কমিয়ে আনার নতুন ভিসা বিধি কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডিস্ট্রিক্ট জাজ ডেনিস সেলার প্রস্তাবিত নিয়মটির ওপর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে মামলার মূল বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি তিনি। আগামী ২ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত নিয়মে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি সর্বোচ্চ ৪ বছরে সীমাবদ্ধ করার কথা ছিলো। এরপর ভিসার মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করতে হতো। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন।
বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন বা প্রায় ৮ মাস করার প্রস্তাব ছিলো। এরপর একই সময়ের জন্য ভিসা বাড়ানোর আবেদন করা যেতো। বর্তমানে তাঁরা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। চীনা সাংবাদিকদের জন্য প্রাথমিকভাবে ৯০ দিনের ভিসা এবং পরে আরও ৯০ দিন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিলো।
বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট নতুন বিধির বিরুদ্ধে মামলা করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত নিয়মটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।
রায়ের সঙ্গে দেওয়া স্মারকে বিচারক সেলার বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার অধীনে গত কয়েক দশকে কোটি বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। তাঁদের মাধ্যমে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হয়েছে এবং মার্কিন অর্থনীতিও উপকৃত হয়েছে।
নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে ডিএইচএস-কে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, সীমিত ও অস্পষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তা বিদেশি নাগরিকের পড়াশোনা, গবেষণা বা শিক্ষকতা বন্ধ করে দিতে পারেন এবং এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও থাকবে না।
বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও একই ঝুঁকি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সেলার। বিশেষ করে সরকারের সমালোচনা করেন, এমন বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসা নবায়ন না করার আশঙ্কার কথা বলেন তিনি।
জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ডিএইচএস নতুন বিধি প্রস্তাব করলেও বিচারক এ যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, অল্প কয়েকটি ঘটনার ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তার যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্যতার সীমার কাছাকাছি নয়।
বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসায় কড়াকড়ি ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ। এর মধ্যে বিভিন্ন শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার এবং বৈধভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া কঠোর করার মতো পদক্ষেপ রয়েছে।
মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ১১ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের শীর্ষ দেশ।
