হুথিদের হামলার শঙ্কায় মক্কায় প্রথমবার এয়ার রেইড অ্যালার্ট
সংগৃহীত ছবি
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে প্রথমবারের মতো পবিত্র নগরী মক্কায় আকাশপথে হামলার সতর্কতা জারি করেছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মক্কাসহ দেশটির পশ্চিম উপকূলের জেদ্দা ও তাইফে স্বল্প সময়ের জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ড্রোনটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়। এ ঘটনার পরই মক্কায় সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি সম্পর্কে সতর্কতা জারি করা হয়।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, মক্কা শহরে বিপদের পরিস্থিতি কেটে গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদের সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং অপ্রয়োজনে জমায়েত ও ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
এর আগে সৌদি আরবের আরও কয়েকটি অঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য আকাশপথে হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিলো। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘হায়োম’-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-মুখী বিমান চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছিলো।
সৌদি আরবে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার এক দিন আগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ১৩ জন আহত হন। চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবে হুথিদের কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব হামলায় দেশটির কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং মোট ৭৩ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে এনডিটিভি।
মক্কার নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি নেতৃত্বের অবস্থানও কঠোর হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই পবিত্র মসজিদ ও মুসল্লিদের নিরাপত্তা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। আরও হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা। সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘পুরোনো মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। জুলাইয়ে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা এবং লোহিত সাগরে দেশটির জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।
কাতারও বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে তা পুরো বিশ্বের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে।
//আইই//
