কেন সবার রিজিক সমান নয়?
মানুষের জীবনে কখনো স্বাচ্ছন্দ্য আসে, আবার কখনো নেমে আসে সংকট। কেউ সম্পদের অধিকারী, কেউ সীমিত রিজিকে জীবনযাপন করেন। কারও জ্ঞান-মেধা বেশি, কারও শারীরিক সক্ষমতা বেশি। বাহ্যিকভাবে এসব পার্থক্য অসমতা মনে হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এর পেছনে রয়েছে আল্লাহর গভীর হিকমত।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তাদের কাউকে অন্যের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করেছি, যাতে তারা একে অপরকে কাজে লাগাতে পারে।’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত: ৩২)
মানুষের এই বৈচিত্র্যই সমাজে পারস্পরিক নির্ভরতা তৈরি করে। কেউ অন্যের সেবা করেন, কেউ সেই সেবা গ্রহণ করেন। জ্ঞান, দক্ষতা, পেশা ও সামর্থ্যের পার্থক্যের মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণ হয়।
মানুষ অনেক সময় মনে করে, বেশি সম্পদই তার জন্য ভালো। কিন্তু আল্লাহ জানেন, কোন পরিমাণ সম্পদ তার ঈমান, চরিত্র ও জীবনের জন্য কল্যাণকর। অতিরিক্ত সম্পদ কখনো অহংকার, গাফিলতি ও সীমালঙ্ঘনের কারণও হতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ যদি তার বান্দাদের জন্য রিজিক প্রশস্ত করে দিতেন, তবে তারা পৃথিবীতে অবশ্যই সীমালঙ্ঘন করতো।’ (সুরা শুরা, আয়াত: ২৭)
তেমনি বিপদ-আপদও মুমিনের জন্য পরীক্ষা। কোনো কষ্ট মর্যাদা বাড়ায়, কোনোটি পাপ মোচনের কারণ হয়, আবার কোনোটি মানুষকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি বিপদে আক্রান্ত করেন।’ (সহিহ বুখারি)
তবে বিপদে পড়ে চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়। চিকিৎসা নেওয়া, কর্মসংস্থান খোঁজা কিংবা অভাব দূর করার চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা ও তার সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
ইসলামে সম্পদ মানুষের মর্যাদার মাপকাঠি নয়। ধনী ব্যক্তি যেন সম্পদের কারণে অহংকারী না হন, আবার দরিদ্র ব্যক্তিও যেন অভাবের কারণে নিজেকে অপমানিত মনে না করেন। আল্লাহর কাছে মর্যাদার ভিত্তি হলো ঈমান, তাকওয়া ও নেক আমল। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াবান।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১৩)
আল্লাহর প্রতিটি সিদ্ধান্তের রহস্য মানুষ সবসময় বুঝতে পারে না। তাই মুমিনের দায়িত্ব হলো হালাল পথে চেষ্টা করা, বিপদে সবর করা, নেয়ামতে শোকর করা এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর হিকমতের ওপর আস্থা রাখা।
/শান্ত/
