কাতারে শ্রমিক থেকে ২৩ প্রতিষ্ঠানের মালিক বিল্লাল
১৯৯৬ সালে শ্রমিক ভিসায় কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের মোহাম্মদ বিল্লাল খান। পরিবারের অভাব ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়ে গেলেও শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। নির্মাণশ্রমিক হিসেবে মেশন, কারপেন্টার, স্টিল ফিক্সার ও টাইলসের কাজ করেছেন। প্রায় ১২ বছর নানা পেশায় কাজ করেও দেশে নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারেননি তিনি।
তবে হাল ছাড়েননি বিল্লাল। ধীরে ধীরে ব্যবসায় নামেন। বর্তমানে কাতারে তার ১২টি কনস্ট্রাকশন কোম্পানি, চারটি রেস্টুরেন্ট, তিনটি সুপার মার্কেট, দুটি সেলুন ও দুটি মাংসের দোকান রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভারত, নেপাল, মিসর ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ১ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন।
বিল্লালের সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিজের এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানও। তার পরিবারের ভাই, শালা, ভাতিজা ও ভাগ্নেসহ প্রায় ২০০ সদস্য বর্তমানে কাতারে রয়েছেন। নিজ গ্রামেও তিনি বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি মসজিদসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে অবদান রেখেছেন।
বিল্লাল খান মনে করেন, প্রবাসে সফল হতে হলে স্বপ্নের পাশাপাশি প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম ও অর্থের সঠিক ব্যবহার। তার ভাষায়, কাতারে অর্থ অপচয় না করে কাজকে প্রাধান্য দিতে হবে। প্রবাসীদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিরাও উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত হবেন।
কাতার বাংলাদেশ কমিউনিটিতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত বিল্লাল কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে সুযোগ পেলে কমিউনিটির জন্য কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তার।
/শান্ত/
