গাছ কাটায় অস্তিত্ব সংকটে কৃষকবন্ধু গো-বক
ধানক্ষেত, জলাভূমি কিংবা গবাদি পশুর পেছনে পেছনে ঘুরে ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে গো-বক। অথচ মানুষের অত্যাচার ও গাছ কাটার কারণে দেশের এই ‘কৃষকবন্ধু’ পাখির ৫৭টি প্রজনন কলোনি গত পাঁচ বছরে হারিয়ে গেছে। ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে উপকারী এই পাখি।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘জার্নাল অব থ্রেটেন্ড ট্যাক্সা’য় প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খান ও অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসানের দিকনির্দেশনায় এবং আল্লামা শিবলী সাদিকের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে ফাহাদ হোসেন হায়দার ও এম শের-ই-আফগানও যুক্ত ছিলেন।
২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের ২৪টি জেলায় অনুসন্ধান চালিয়ে গো-বকের ২১৮টি কলোনি চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ১২৩টি সক্রিয় প্রজনন কলোনি, ৩৮টি নৈশ আবাসন এবং ৫৭টি কলোনি ধ্বংস হয়ে গেছে।
সবচেয়ে বেশি সক্রিয় কলোনি পাওয়া গেছে রাজশাহী ও সিলেটে—৪১টি করে। নওগাঁয় সর্বোচ্চ ২৫টি থাকলেও পাবনা, লালমনিরহাট ও জামালপুরে একটি করে কলোনি অবশিষ্ট রয়েছে। সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধায় কোনো সক্রিয় কলোনি পাওয়া যায়নি।
গবেষণায় ১২৩টি সক্রিয় কলোনিতে ২৯ হাজার ৪১২টি বাসা পাওয়া গেছে। এর ৭৭ দশমিক ৫০ শতাংশই ধানক্ষেতের পাশের গাছ বা বাঁশঝাড়ে। ধ্বংস হওয়া কলোনির ৬৬ শতাংশ ক্ষেত্রে বড় গাছ বা বাঁশঝাড় কেটে ফেলা হয়েছে। আর ৪৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ডিম-ছানা চুরি, গুলি বা বিষ প্রয়োগসহ মানুষের উপদ্রব দায়ী।
গবেষণা দলের প্রধান শিবলী সাদিক বলেন, এসব পাখি ক্ষতিকর পোকা দমন ও জলজ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। তাই কলোনি রক্ষাকারী জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ বা প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেছেন গবেষকরা।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খান বলেন, বেশিরভাগ কলোনিই ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায়। স্থানীয়দের ত্যাগের কারণেই ১০০ থেকে ১৫০ বছরের পুরোনো কলোনিও এখনো টিকে আছে।
গবেষকদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে প্রজনন মৌসুমে গাছ ও বাঁশঝাড় কাটা বন্ধ, শিকার ও ডিম-ছানা ধরা নিষিদ্ধ করা এবং স্থানীয়দের নিয়ে কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা।
//আরএস//
