শি জিনপিং কি সত্যিই অসুস্থ? সামনে এলো যে তথ্য
সংগৃহীত ছবি
ব্রিকস সম্মেলন শেষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে ফিরেছেন। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গুরুতর অসুস্থতা ও স্ট্রোকের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে শি জিনপিং অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত চীন বা ভারতের সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেনি।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শি জিনপিং বেইজিংয়ে ফেরেন বলে জানিয়েছে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম ও গোভ ডট সিএন। তাঁর সঙ্গে একই বিমানে দেশে ফেরেন কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য কাই শি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সরকারি ওই প্রতিবেদনে শি'র শারীরিক অসুস্থতা বা চিকিৎসা নেওয়ার কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
শি'র স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জনের সূত্রপাত মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্ট থেকে। চীনা বিরোধী নেতা ওয়ানজুন শিয়ে এক্সে দাবি করেন, ব্রিকস সম্মেলনের সময় শি হঠাৎ জ্ঞান হারান। পরে তাঁর স্ট্রোক হয় এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য বিশেষ বিমানে তাঁকে বেইজিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ওয়ানজুন শিয়ে'র ভাষ্য অনুযায়ী, বেইজিং পৌঁছানোর পর শি-কে সামরিক হেলিকপ্টারে করে পিপলস লিবারেশন আর্মির জেনারেল হাসপাতাল বা ৩০১ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গুরুতর স্ট্রোক শনাক্ত হওয়ার পর তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তাঁকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নয়াদিল্লি থেকে বেইজিংয়ের দীর্ঘ যাত্রার কারণে চিকিৎসা পেতেও দেরি হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসব দাবির কোনোটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা, স্ট্রোক বা হাসপাতালে ভর্তির দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ওয়ানজুন শিয়ে'র ওই পোস্টে পরে কমিউনিটি নোটও যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পোস্টে থাকা তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পেছনে ব্রিকস সম্মেলনের দু'টি ঘটনা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। এর একটি হলো সম্মেলনের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি'র সঙ্গে শি'র সংক্ষিপ্ত কথোপকথন। মোদি'র বক্তব্যের সময় একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি চীনা প্রতিনিধিদলের দিকে তাকিয়ে শি-কে জিজ্ঞাসা করেন, ‘সব ঠিক আছে তো?’ শি-কেও এর জবাব দিতে দেখা যায়।
আরেকটি ঘটনা ছিলো মোদি'র দেওয়া নৈশভোজে শি'র অনুপস্থিতি। ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ওই ভোজে রাশিয়া'র প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ কয়েকজন নেতা অংশ নিলেও চীনের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। শি কেন সেখানে যাননি, সে বিষয়ে চীন বা ভারত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনের ব্যস্ত কর্মসূচির পর তিনি হোটেলে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন।
গত ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনটি শি'র জন্য ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ৭ বছর পর এটিই ছিলো তাঁর প্রথম ভারত সফর। সম্মেলনের ফাঁকে মোদি'র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
//আইই//
