নারী যাত্রীর নিরাপত্তায় নারী চালক, ঢাকার পথে ‘মায়া রাইড’
বাসের ভিড়, সিএনজিতে অস্বস্তি কিংবা অপরিচিত পুরুষের বাইকের পেছনে বসার দ্বিধা—ঢাকার পথে নারীদের এমন অভিজ্ঞতা নতুন নয়। নিরাপত্তা আর স্বস্তির এই সংকট থেকেই এবার নারী যাত্রীর জন্য নারী চালকের রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘মায়া রাইড’।
উদ্যোগটির ভাবনা আসে ফাহাদ চৌধূরী ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের আলোচনায়। ঢাকার পথে নারীদের নানা ভোগান্তি এবং নারী বাইক চালকদের দেখে জান্নাতের মাথায় আসে নারী চালক দিয়ে নারী যাত্রী পরিবহনের চিন্তা। পরে ফাহাদ একটি ওয়েবসাইট চালু করেন ‘মায়া রাইড’ নামে।
ফাহাদ বলেন, "আমি যেহেতু ডেটা মার্কেটিংয়ে আট বছর ধরে কাজ করছি, ভাবলাম একটা এক্সপেরিমেন্ট করি।" সেই ছোট্ট এক্সপেরিমেন্টই ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্মে রূপ নেয়।
২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি চালু হয় মায়া রাইডের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেইজ। চার মাসের মাথায় যুক্ত হন প্রায় ৭০ জন নারী বাইক রাইডার। এর মধ্যে প্রায় ৩০ জন নিয়মিত রাইড দিচ্ছেন। এছাড়া যুক্ত আছেন প্রায় ২৫ জন নারী কার চালক, যাদের মধ্যে নিয়মিত রাইড দেন ৪ থেকে ৫ জন। এই সময়ের মধ্যে বাইক রাইড হয়েছে ৩০০টিরও বেশি।
এছাড়া নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে চালকদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ছবি, গাড়ি বা বাইকের নম্বরসহ তথ্য যাচাই করা হয়। অন্তত এক থেকে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকা রাইডারদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
মায়া রাইডে কার সার্ভিস রয়েছে সাপ্তাহিক ও মাসিক সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিতে। ‘পিক আপ পয়েন্ট’ প্যাকেজে মাসিক খরচ আনুমানিক ৭ হাজার ৩০০ টাকা, আর ‘ডোর টু ডোর’ প্যাকেজে ৯ হাজার ২০০ টাকা। পাশাপাশি চালু হয়েছে স্কুলগামী শিশুদের জন্য ‘মায়া কিডস’।
নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিও এই উদ্যোগের লক্ষ্য। রাইডারদের কাছ থেকে কমিশন রাখা হয় আয়ের ১০ শতাংশ।
আগামী তিন মাসের মধ্যে অ্যাপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ফাহাদ বলেন, "আগামী তিন মাসের মধ্যে অ্যাপটি চালু করার ইচ্ছা আছে। এটি হয়ে গেলে আরও সুন্দর করে কাজটা করতে পারবো আমরা। গ্রাহকদের জন্যও সুবিধা হবে।"
আর ফাহাদের ভাষায়, "নারীরা কাজ করছেন অন্য নারীদের হেল্প করার উদ্দেশ্যে। ব্যাপারটা কত সুন্দর না?"
//আরএস//
