ওটিপি-পিনের পার্থক্য কী, নিরাপদ থাকতে যা করবেন
ডিজিটাল লেনদেন, মোবাইল ব্যাংকিং ও বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহারের সময় নিরাপত্তার জন্য ওটিপি ও পিনের প্রয়োজন হয়। অনেকে এই দুই ধরনের কোডকে একই মনে করলেও কাজ, মেয়াদ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।
ওটিপি
ওটিপির পূর্ণরূপ ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড। এটি একটি অস্থায়ী নিরাপত্তা কোড, যা সাধারণত লগইন, অর্থ লেনদেন বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কার্যক্রমের সময় ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ে ব্যবহৃত হয়। এসএমএস, ই-মেইল কিংবা নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে ওটিপি পাঠানো হতে পারে। এটি সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকে এবং একবার ব্যবহারের পর অকার্যকর হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার না করলেও এর মেয়াদ শেষ হয়।
পিন
পিনের পূর্ণরূপ পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর। এটি ব্যবহারকারীর নির্ধারিত একটি গোপন নম্বর, যা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এটিএম, মোবাইল ব্যাংকিং, ডিভাইসসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে পরিচয় যাচাইয়ের কাজে লাগে। ওটিপির তুলনায় পিন দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায়। ব্যবহারকারী নিজে পরিবর্তন না করলে সাধারণত একই পিন কার্যকর থাকে। ফলে পিন অন্যের হাতে চলে গেলে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মূল পার্থক্য
সহজভাবে বললে, ওটিপি হলো অস্থায়ী ও একবার ব্যবহারের নিরাপত্তা কোড। পিন হলো ব্যবহারকারীর নির্ধারিত গোপন নম্বর। ওটিপি প্রতিবার নতুন করে তৈরি হতে পারে। নির্দিষ্ট সময় বা ব্যবহারের পর অকার্যকর হয়ে যায়। পিন পরিবর্তন না করা পর্যন্ত একই নম্বর ব্যবহার করা যায়।
নিরাপদ থাকতে করণীয়
ওটিপি ও পিন কোনো অবস্থাতেই অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয়ে কেউ ফোন করলেও এসব গোপন কোড দেওয়া যাবে না। ফোনে কেউ ওটিপি বা পিন চাইলে সেটিকে প্রতারণার চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ করা বা অপরিচিত কারও নির্দেশনায় কোনো কোড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সহজে অনুমান করা যায়, এমন সংখ্যা পিন হিসেবে ব্যবহার না করে নিয়মিত পরিবর্তন করা নিরাপদ। ওটিপি পাওয়ার পরও সেটি ব্যবহারের আগে লেনদেন বা কার্যক্রমের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
/শান্ত/
